ঢাকা, শনিবার, ১৭ অক্টোবর, ২০২৬

কক্সবাজারে আগুনে ঝরল এক পরিবারের ছয় প্রাণ, লাফিয়ে বাঁচলেন স্বামী

কক্সবাজারে ছুটির আনন্দ নিমেষেই বিষাদ! পরিবারের সবাইকে নিয়ে আনন্দময় ছুটি কাটাতে ঢাকা থেকে কক্সবাজারে গিয়েছিলেন মো. আশিকুল ইসলাম। সাথে ছিলেন তাঁর স্ত্রী ইসরাত জাহান মালিহা, শ্যালিকা লায়লা জাহান নাবিলাসহ পরিবারের অন্য সদস্যরা। কিন্তু শনিবার সকালের এক ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড সেই ছুটির আনন্দকে এক মুহূর্তেই নামিয়ে আনল গাঢ় বিষাদে।কক্সবাজারের উখিয়ার ইনানী পাটোয়ারটেক সৈকতে কাঠের তৈরি রিসোর্টে লাগা আগুনে নিহত ১০ জন পর্যটকের মধ্যে আশিকুল ইসলামের স্ত্রী ও স্বজনসহ একই পরিবারের ছয় সদস্য রয়েছেন।


শনিবার সকাল সাড়ে সাতটার দিকে মেরিন ড্রাইভ সড়কসংলগ্ন কাঠের তৈরি রিসোর্টটিতে হঠাৎ আগুন লাগে। আগুনে রিসোর্টের দোতলা থেকে প্রাণ বাঁচাতে লাফ দিয়ে কোনোমতে বেঁচে যান আশিকুল ইসলাম। কিন্তু দুর্ভাগ্যবশত আগুন ও ধোঁয়ার কবলে পড়ে ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারান তাঁর স্ত্রী ও পরিবারের অন্য পাঁচ সদস্য। আশিকুল ইসলামের ভাই বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, দোতলা থেকে লাফ দেওয়ায় তাঁর ভাই অলৌকিকভাবে বেঁচে গেলেও ভাবিসহ একই পরিবারের ছয়জন স্বজনকে হারাতে হয়েছে।


খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা স্থানীয় বাসিন্দা ও পুলিশের সহায়তায় দ্রুত উদ্ধার কাজ শুরু করেন। কক্সবাজার ফায়ার সার্ভিসের উপসহকারী পরিচালক সৈয়দ মোরশেদ হোসেন বেলা সোয়া দুইটার দিকে জানান, ধ্বংসস্তূপ থেকে এ পর্যন্ত ১০ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। উদ্ধার অভিযান এখনও চলছে এবং নিহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।


কক্সবাজার সদর হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা (আরএমও) সুবক্তগীন মাহমুদ সোহেল জানান, নিহত ১০ জনের মধ্যে এখন পর্যন্ত ছয়জনের পরিচয় নিশ্চিত হওয়া গেছে। তাঁরা হলেন—ঢাকার বনশ্রীর বাসিন্দা ইসরাত জাহান মালিহা (৩০) ও মিলিতা মেহেজাবিন আলভী (২৩), খিলগাঁওয়ের লায়লা জাহান নাবিলা (২৭) ও নাফিসতা মীম (২৭), চুয়াডাঙ্গার ফারিহা কবির (৩৩) এবং মাত্র পাঁচ বছর বয়সী শিশু ফায়িজান আহম্মেদ।


এদিকে মর্মান্তিক এই অগ্নিকাণ্ডে গুরুতর দগ্ধ অবস্থায় আরও ছয়জনকে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। চিকিৎসাধীন ব্যক্তিরা হলেন—মুগদা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের চিকিৎসক শিহাব উদ্দীন (৩১), তাঁর স্ত্রী নাফিজা নেওয়াজ খান (২৯), মান্নান (৩৪), মেহেরুন্নেসা (৩০), মাসুদ (৩০) এবং সামিদা (৩২)। সুন্দর ছুটির দিনে এমন আকস্মিক প্রাণহানি ও শোকে পুরো এলাকা জুড়ে নেমে এসেছে মাতম।

ads
ads
ads

Our Facebook Page

↑